1. admin@pratibaderkantho.com : admin :
  2. badhsa85ja@gmail.com : badhsa :
  3. editor@pratibaderkantho.com : editor :
বুনো ফল হলেও ভরপুর ভিটামিন সি লটকনে - প্রতিবাদের কন্ঠ
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

বুনো ফল হলেও ভরপুর ভিটামিন সি লটকনে

অনলাইন ডেক্স:
  • প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ৯২

লটকন সবাই খুব খায়, না, এমন নয়। তবে ফল হিসেবে এটি দারুণ। এক ফলে টক মিষ্টি দুই স্বাদ। বেশ রসালো হয়। মুখে পুরে দাঁত দিয়ে হাল্কা চাপ দিলে রসে মুখ ভর্তি হয়ে যায়। তবে সারাবছর এটি পওয়া যায় না। এখন মৌসুম। হলুদ বা বাদামী রঙের থোকা থোকা ফলে বাজার ভরে ওঠেছে।

লটকনের বৈজ্ঞানিক নাম ইধপপধঁৎবধ সড়ঃষবুধহধ, আরও কিছু নাম আছে। এই যেমন হাড়াফাটা, ডুবি, বুবি, কানাইজু, লটকা, লটকাউ ও কিছুয়ান। ফলটির খোসা বেশ মোটা। এ খোসা সরালে দৃশ্যমান হয় নরম রসালো অংশ। অংশটি ২ থেকে ৫টি বীজ দ্বারা বিভক্ত। কিন্তু একসঙ্গে মুখ গুঁজে থাকে। লটকন গাছ ৯ থেকে ১২ মিটার উঁচু হয়। এর আছে পুরুষ এবং স্ত্রী জাত। আলাদা আলাদা ফুলও হয়।

তবে লটকন বুনো গাছ। বনে জঙ্গলেই বেশি হত। গ্রামে ঝোপ জঙ্গলের মতো জায়গায় দেখা যেত গাছটি। এখনও কম বেশি আছে। তবে আম কাঁঠাল বা জাম গাছ যেমন পাহাড়া দিয়ে রাখা হয় লটকনের বেলায় তেমনটি দেখা যায় না। গাছ বেড়ে ওঠে অযতেœই। পাড়ার দূরন্ত ছেলে-মেয়েরা বিনা বাধায় লটকন পেরে খেতে পারে। পাশাপাশি এখন বাণিজ্যিকভাবে লটকনের চাষ হচ্ছে। নরসিংদীতে প্রচুর চাষ হয়। এছাড়া গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লটকনের চাষ হচ্ছে। সেসব এলাকা থেকেই সরাসরি ঢাকায় চলে আসছে ফলটি।

ফলের দোকান অথচ সেখানে লটকন নেই- এখন এ কথা যেন ভাবাই যায় না। আলাদা করে বলতে হয় কাওরান বাজারের কথা। আড়তগুলোতে এত লটকন, এত যে, দেখে শুধু অবাকই হতে হয়। ফলটি নিয়ে কাড়াকাড়ি নেই। তবে চাহিদা যে আছে, বাজার ঘুরে সে ধারণা আরও পরিষ্কার হয়। বিপুল পরিমাণ লটকন এখান থেকেই ঢাকার অলিতে গলিতে পৌঁছে যায়।

মুসাদ্দেক নামের এক পাইকারি বিক্রেতা বলছিলেন, এতদিন তো মধুমাস জৈষ্ঠ্যের ফলই বিক্রি করেছি। লিচু আম কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। এ পর্যায়ে নতুন হিসেবে বাজারে ঢুকেছে লটকন। স্বাদের ব্যাপারটি তো আছেই, পাশাপাশি দাম অনেক কম। তাই একেবারে সাধারণ মানুষও কিনে খেতে পারে।

তবে পুষ্টিবিদরা স্বাদ নয়, বরং ভিটামিন সি’র উৎস হিসেবে দেখেন লটকনকে। তারা বলছেন, এ ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। যখন করোনার প্রকোপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যখন মৃত্যু ও সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। লটকন এ ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী। দিনে মাত্র দু’থেকে তিনটি লটকন মুখে দিলে ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। আছে ভিটামিন বি’র উপস্থিতিও। খনিজ উপাদানও আছে। এসব উপাদান শরীরের নানা উপকার করে থাকে।

সব মিলিয়ে লটকন সুস্বাদু এবং উপকারী ফল। হ্যাঁ, এখন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। তবে শেষ হতেও সময় লাগবে না। তাই বাজারে থাকতে থাকতে স্বাদ নিন। উপকার গ্রহণ করুন লটকনের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
error: Content is protected !!