1. admin@pratibaderkantho.com : admin :
  2. badhsa85ja@gmail.com : badhsa :
  3. editor@pratibaderkantho.com : editor :
পোশাক রপ্তানিতে সুবাতাস - প্রতিবাদের কন্ঠ
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৮:০২ অপরাহ্ন

পোশাক রপ্তানিতে সুবাতাস

প্রতিবাদের কন্ঠ
  • প্রকাশকাল : শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০২২
  • ৩৮

করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে পুরোদমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। রপ্তানি আয়ে বইছে সুবাতাস। গত ২ মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ। এছাড়াও কারখানা নতুন অর্ডার আসছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক শিপমেন্ট করতে অনেক কারখানা দুই শিফটে চলছে। অবশ্য চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আলোচনা নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, গত দুই মাসে ৭৫৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫৪৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২ শতাংশ।

গার্মেন্ট মালিকরা বলছেন, কারখানায় এখন প্রচুর অর্ডার আসছে। সময়মতো পণ্য রপ্তানি করতে অনেক মালিক সাব-কন্ট্রাকেও কাজ করাচ্ছেন। আবার দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় অনেক কারখানা দুই শিফটে চলছে। এর মধ্যেও ক্রেতারা প্রচুর অর্ডার নিয়ে আসছেন। কিন্তু নানা জটিলতায় বাড়তি অর্ডার নেওয়া যাচ্ছে না। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাপাসিটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কারণ গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও ভোল্টেজ ওঠানামাসহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এসব কারণে অর্ডার নেওয়ার আগে লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হচ্ছে গার্মেন্ট মালিকদের। তারপরও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে অর্ডার নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক রপ্তানিতে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই সঙ্গে শঙ্কাও। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার থেকে অনেক অর্ডার সরছে, কিন্তু মালিকরা তা গ্রহণ করতে চিন্তিত। কারণ জ্বালানি তেলের পর এবার গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে। যদি দাম বাড়ানো হয়, তবে পোশাক শিল্প সেই ভার বহন করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত নীতি-সহায়তা দিতে পারলে পোশাক শিল্প অনেক দূরে যেতে পারবে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে কাস্টমসের জটিলতাগুলো দূর এবং ম্যান মেইড ফাইবারে ইনসেনটিভ দিলে রপ্তানি আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এখন কটনের বাজারকে ম্যান মেইড ফাইবার সংকুচিত করছে। তাই ম্যান মেইড ফাইবারে মনোযোগ দিতে না পারলে এই বিশাল বাজার অন্যত্র স্থানান্তর হয়ে যাবে। আর এ ব্যবসার একটা নীতি হলো, বাজার হারালে সেটি আর ফেরত পাওয়া যায় না।

বিজিএমইএ’র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, এখন কারখানায় প্রচুর অর্ডার আছে। এটি মূলত ভারত-ভিয়েতনামের লকডাউনের প্রভাবে। অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে এ দুই দেশে করোনার বিধিনিষেধ থাকায় ক্রেতারা বাংলাদেশে প্রচুর অর্ডার দিয়েছেন। আগামী জুন-জুলাই পর্যন্ত অর্ডার আসবে। রপ্তানি আয়ে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। তবে রপ্তানির প্রকৃত চিত্র এরপর বোঝা যাবে। তিনি আরও বলেন, লাভ-ক্ষতি হিসাব না করে শুধু ক্রেতা ধরে রাখতে অর্ডার নিয়েছেন অনেক পোশাক কারখানা মালিক। অনেকে অর্ডার নিয়েও বিপাকে আছেন। কারণ তখনকার ব্যবসা পরিবেশ, আর এখনকার পরিবেশ এক নয়। জ্বালানি তেল ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে অর্ডারগুলোকে পুরোপুরি স্বস্তিকর বলা যাবে না।আজিম আরও বলেন, মালিকরা অর্ডার ধরে রাখতে প্রাণান্তর চেষ্টা করছেন। এ ধারা ধরে রাখার ক্ষেত্রে দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ব্যবসার ব্যয় কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসা সহজীকরণে সব সরকারি সংস্থাকে মনোযোগী হতে হবে। এ দুটি কাজ করা গেলে ২০২৪ সাল নাগাদ ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
error: Content is protected !!